বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
জনপ্রিয় ক্লোজআপ তারকা নাসরিন আক্তার বিউটি। সম্প্রতি বেশকিছু আধুনিক গানে কণ্ঠ দিলেন। প্লেব্যাক করলেন অনেক বছর পর। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
নতুন গান…
এখন তো সরকারি বিধিনিষেধের কারণে কোনো কনসার্ট করতে পারছি না। তাই রেকর্ডিংয়েই সময় দিচ্ছি বেশি। অতি সম্প্রতি তিনটি মৌলিক গানে কণ্ঠ দিলাম। এরমধ্যে রয়েছে এইচএম ভয়েসের ব্যানারে দুটি গান। এরমধ্যে একটি ‘যুদ্ধ মা’ নামের দেশের গান, অন্যটি ফোক গান ‘কোকিলা বন্ধু’। দুটি গানের সুর ও মিউজিক ভিডিও করেছেন ফিডেল নাইম। লিখেছেন শেখ নজরুল, কম্পোজিশন করেছেন রেজওয়ান। দুটি ভিডিওতেই আমাকে দেখা যাবে। সঙ্গে মডেলও থাকবেন। দেশের গানটির ভিডিওর আইডিয়া আমার খুব ভালো লেগেছে। এক বীরাঙ্গনার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
বাবুর সঙ্গে…
ফজলুর রহমান বাবু একইসঙ্গে গুণী অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী। তিনি নিয়মিত গান না করলেও তার গান আমার খুব পছন্দ। এবার সুযোগ হলো প্রিয় শিল্পীর সঙ্গে একটি দ্বৈত গানে কণ্ঠ দেওয়ার। রাসেল কবীরের কথায় গানটির সুর ও সংগীত করেছেন পলাশ লোহা। এই গানের ভিডিওতে শুধু আমরা দুজনই পারফর্ম করেছি। এই বিষয়টি আমার খুব ভালো লাগে। আমার মনে হয়, মিউজিক ভিডিওতে অন্য মডেল দিয়ে পারফর্ম করালে বেশিরভাগ দর্শক গানের চেয়ে ভিডিওতেই মনোযোগ দেয়। এর ফলে শিল্পী কিংবা গানটি আড়ালে চলে যায়। তাই আমার বেশিরভাগ মিউজিক ভিডিওতে আমি নিজেই কাজ করার চেষ্টা করি।
মৌসুমীর ঠোঁটে…
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ‘সাম্পানওয়ালা’ সিনেমায় কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে আমার প্লেব্যাকে যাত্রা শুরু। সেই ছবির নায়িকা ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। এরপর পরীমণি, তমা মির্জাসহ আরও কয়েকজন নায়িকার ঠোঁটে আমার গান গেছে। কিন্তু মৌসুমী আপুর বিষয়টি আলাদা। তিনি আমার সব সময়ের জন্য প্রিয় নায়িকা। তার অভিনয় দেখেছি স্কুলজীবন থেকে। প্রিয় নায়িকা আমার কণ্ঠে ঠোঁট মেলাচ্ছেন, দেখতেই অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। দীর্ঘদিন পর আবারও মৌসুমী আপুর জন্য একটি গান গেয়েছি সিনেমায়। মির্জা সাখাওয়াত হোসেন পরিচালিত ছবিটির নাম ‘ভাঙন’। এই গানটির সুর ও সংগীত করেছেন রিয়েল আশিক। এখানে ফজলুর রহমান বাবুও অভিনয় করেছেন।
বিয়ে, সংসার, সন্তান…
আমি খুবই ভাগ্যবতী যে আমার স্বামী আমার গানের ব্যাপারে ভীষণ সাপোর্টিভ। অনেকে স্বামীর কাছ থেকে এই সাপোর্টটুকু পায় না বলে ক্যারিয়ার থেমে যায়। এমনকি বিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটে। কিন্তু তারপরও আমি বলব, নারী শিল্পীদের জীবনে বিয়ে, সংসার, সন্তান লালন-পালনের বিষয়টি কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমাকে কেউ কাজ করতে বাধা না দিলেও একজন মা কিংবা স্ত্রী হিসেবে সেই দায়িত্বও তো ফেলে শুধু গান নিয়ে পড়ে থাকতে পারি না। লালন সাঁইজির কথায় আছে, সময় গেলে সাধন হবে না। একটা সময় আমি আর গান গাইতে পারব না। তখন এই সংসারেই তো আমাকে ফিরতে হবে। সেই সংসারটাই যদি সময় থাকতে কেউ গুছিয়ে না নেয়, তাহলে ফিরবেটা কোথায়?